A night in Tindu

emon 23
Artboard 11

A night in Tindu – BDBIKERZ

#জীবন থেকে নেওয়া

বন্ধু আমার ব্রেক ছেড়ে দিছে, কমিউনিকেটর এ আমার বন্ধু সাগরকে বলতে বলতে তিন্দু পথে আমরা ৫জন আছি।

আমি জয়ন্ত (গল্পসূত্রে ছদ্মনাম)। আমি সবসময়ই ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালোবাসি। প্রায় ৬৪ টি জেলার ৪৪/৪৫ টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন এখন অবধি। আজকে এই ট্যুরটা অনেকদিনের প্ল্যান থেকে। প্রথম দিকে প্রায় ১০/১২ জনের মত হলেও, ফাইনালি আমরা ৫ জন এলাম। পাহাড় ভ্রমণ আমাদের একপ্রকার নেশা। আমার সাথে এইবারের ট্যুরে সাগর, দিপংকর, আকিব আর পলাশ আছে। সবাই বাইকে আসক্ত এবং পাহাড় প্রেমি। 

প্ল্যান মোতাবেক আমরা ভোর ৫ টায় আামাদের বাড়ি হতে বের হই। গন্তব্য স্থানে সবাই একত্রে হয়ে আমরা রওনা হলাম ৬ টায়। চন্দনাইশ কলেজ বাজার আমরা সকালের নাস্তা প্রায় ৭ টা নাগাদ শেষ করি। কিছু সময় বসে আবার রওনা হলাম। দুপুর নাগাদ আমরা বান্দরবান পৌছায়। সেখানে দুপুরের খওয়া শেষে তিন্দু রৌওনা হই। সন্ধ্যার আগ মহূর্ত প্রায় গোধূলিতে আমরা তিন্দু উঠতে থাকি। হঠাৎ করে আমার ব্রেক একটু কম পাচ্ছি বলে আমার মনে হচ্ছে!  আমি বারবার ব্রেক এর ব্যবহারে কেমন জানি বিভ্রান্ত হচ্ছিলাম। আমরা সবাই একত্রে কমিনিউকেটর এ সংযুক্ত থাকায় বাইক চালানোর সময় কথা বলে পথ নির্দেশ করি। কমিউনিকেটর এ সবাই মজা করতে করতে হঠাৎ আমার ব্রেক পুরোই ছেড়ে দিয়েছিল। আমার একটু থামা প্রয়োজন ছিল। তাই আমি বললাম- বন্ধু আমার ব্রেক ছেড়ে দিছে! কমিউনিকেটর এ আমার বন্ধু সাগরকে বলতে বলতে তিন্দু পথে আমরা ৫জন আছি। কিছুক্ষণ থেমে আবার চলা শুরু আমাদের। কিছু পথ যেতে না যেতেই সাগর বলল তার ব্রেকও নাকি কাজ করছে না! তারপর আবার ব্রেক। এইভাবে আমরা তিন্দুতে সম্পূর্ণ উঠতে অন্ধকার হয়ে গেল। তারপর সবাই তাবু বিছিয়ে ব্যাগ ঘুছিয়ে রাতের খাবার এর জন্য সংগে আনা ব্যাগ থেকে খাবার বের করি প্রস্তুতি শুরু করলাম। ও বলতে ভুলে গেছি, পথমধ্যে আমাদের সাথে পাহাড়ি এই ভাইও যুক্ত হয়েছিল। যার সাথে আমরা পাহাড়ে ভ্রমণে আসলেই দেখা করি, আড্ডা দিয়ে থাকি। তিনি এবারও আমাদের সাথে আছেন। আমাদের সাথে রান্নায় ব্যস্ত তিনিও। তিনি স্থানীয় হওয়ায় আমরা সবাই একটু নির্ভয়ে থাকি। রাতে সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল আসে তাই আমরা সবাই সর্তকার সাথে আমাদের আনন্দ করি। সবাই মজা করে রান্না করতে করতে প্রায় আমাদের রান্না শেষ। সবাই গোল হয়ে বসে ফায়ার ক্যাম্প করে মজা করতে থাকি গানের তালে তালে। তারপর রাতের বেশ অনেক সময় পর আমরা খাওয়া শুরু করি। আমাদের বাইকগুলো পাশেই ছিল তাবুর। তবুও চেক দেওয়ায় কোন বিড়ম্বনা ছিলনা। প্রায় ভোর রাত যখন আমরা ঘুমাব সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন নাম না জানা কত জীবজন্তু যে সুন্দর করে যে তাদের মাতৃডাকে আপ্লূত ছিল সে শুনতে যে কতটা মুগ্ধতায় মন ভরে যাচ্ছিল বলার বাহিরে। সবাই যখন ঘুমে ব্যস্ত আমি সেই শান্ত পরিবেশে নাম না জানা প্রাণীদের শব্দগুলো মন দিয়ে শুনছি। সত্যি বলতে কি যে ভালো লাগছিল তা বলার বাহিরে। যাওয়ার সময় যতটা কষ্ট হয়েছিল মনে হল তা স্বার্থক। এইভাবে ভোর হলে পাখির শব্দ, সূর্য উদয়। ভয়ংকর এক সুন্দর এর সম্মুখীন হয়েছিলাম। আমার আর সেদিন ঘুম হয়নি। সকাল হলে সবাই আস্তে আস্তে উঠে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তার প্রস্তুতি চলে। নাস্তা শেষ করে আমাদের গন্তব্য ঠিক হল “আলীর গোহা”। তখন আবার খুশিতে মন ভরে গেল। যেই কথা সেই কাজ। প্রস্তুতি শেষে আমরা প্রায় ১১ টা নাগাদ তিন্দু হয়ে বের হয়ে আলী’র গোহা’র উদ্দেশ্য রওনা হলাম। প্রকৃতি দেখতে দেখতে দুপুর পার হতেই আমরা আলীকদম পৌছালাম। সেখানে দুপুরে খাওয়া শেষ করে, আমাদের সাথে পাহাড়ি বন্ধুর সহযোগিতা আমাদের সকলের বাইকগুলো মাতামুহুরি একটি বাড়িতে নিরাপদে রাখতে সক্ষম হলাম। তারপর বাইকে বাঁধা আমাদের সকল জিনিস পত্র স্বশরীরে বহন করে আলীর গোহার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। মূলত মাতামুহুরি আর টোয়াইন খাল ঘেঁষে দুই পাহাড়েরে চূড়াতেই এই গুহা অবস্থিত। তাই আমাদেরকে প্রায় ঘন্টা দুয়েক হাটতে হল। তারপর আমরা হাটতে হাটতে পৌছালাম আমাদের গন্তব্যে। আবার তাবু নিবাস। পাহাড়ে এমনভাবে প্রকৃতির বুকে থাকতেই কেমন জানি ভালো লাগে ভীষণ। সেদিন রাতটাও বেশ আনন্দে কেটেছিল আমাদের। সবাই একসাথে ফায়ার ক্যাম্প, হাসি-মজা ইত্যাদিতে কমতি ছিলনা। রাত যত গভীর হয়, জীব-জন্তুর গর্জন যেন বাড়তেই থাকে। এসব শুনে ভয়ের পরিবর্তে ভালোই লাগছিল। শেষ রাতে একটু ঘুমালেও সকালে আমাদের ফিরার সিদ্ধান্ত হয় বলে তাড়াতাড়ি উঠতে হলো। সবাই ফ্রেশ ওইদিনের মত গোহায় শেষ চা টুকু খাওয়া শেষ করে সব গুছিয়ে রওনা হলাম। মাতামুহুরি এসে সবাই বাইক নিয়ে আবার নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা।

আসলে বাইকারদের জীবন বড়ই অদ্ভুত। কখনো বন্ধু সংগ উদ্দেশ্য বহুদূর বাইক চালিয়ে গিয়ে ১৫-৩০ মিনিটেই থেকে চলে আসে। আবার কখনো মনের শান্তির জন্য হাজার মাইল দূরেও পারি দেয় নির্ভয়ে। শীতের সময়ে তো তাবু ক্যাম্পিং এর মত প্রকৃতির বুকে থাকতে পারাটা; একটা অন্যরকম অনুভূতি বলা যায়। প্রকৃতি আর বাইকের মায়া যে পেয়েছে তারে আটকে রাখা মুসকিল।

আসলে এক একটা ভ্রমণ মানেই নতুন আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা💓

সকলের ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক❤️

✍️গল্পকথক- ইমন বিশ্বাস 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories
Become a member

Join Our Family

250+ members and the family keeps growing!

Let’s Ride Together

Our Discount

Partners

BDBIKERZ members will get exclusive discount on our partners shop & enjoy more.

BDBIKERZ members will get exclusive discount on our partners shop & enjoy more.   BDBIKERZ members will get exclusive discount on our partners shop & enjoy more.